মূলধন বাড়াবে শিপিং কর্পোরেশন: অফলোড থাকবে ৪৯ শতাংশ

007_226299শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অনুমোদিত আইন অনুযায়ী, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধণ বাড়িয়ে ৩৫০ কোটি টাকা ও অনুমোদিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা  করা হবে। যার ৫১ শতাংশ থাকবে সরকারের মালিকানায় এবং বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ার অফলোড থাকবে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। জানা যায়, সাধারন ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এ শেয়ার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মাধ্যেমে বিক্রি করা হবে। বর্তমানে কোম্পানির ৫২.১০ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে ও বাকি ৪৭.৯০ শতাংশ শেয়ার সাধারনের হাতে রয়েছে। অর্থাৎ নতুন করে বড় অঙ্কের শেয়ার সাধারণের জন্য অফলোড করা হবে।

৭ থেকে ১৩ জন নিয়ে একটি পরিচালনা পর্ষদের কথা বলা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বলেন, যার প্রধান হবেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী। আর সদস্য হিসেবে থাকবেন নৌ-পরিবহন সচিব, অর্থ বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মর্যাদার কর্মকর্তা, করপোরেশনের এমডি, নির্বাহী পরিচালক (অর্থ), নির্বাহী পরিচালক (প্রযুক্তি) ও নির্বাহী পরিচালক (বাণিজ্যিক)। এর প্রধান নির্বাহী হবেন এমডি। তবে বিদেশ থেকে জাহাজ কেনার জন্য যে প্রস্তাব কোম্পানির পক্ষ থেকে করা হয়েছিল তা অনুমোদন হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশোধিত অাইনে চট্টগ্রামে শিপিং করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় রাখা হলেও সরকারের অনুমতি নিয়ে ঢাকা বা অন্য জায়গায় করা যাবে বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। জাহাজ বা নৌ-যান অর্জন, ভাড়া করা, ভাড়া দেওয়া, দখলে রাখা, হস্তান্তর করা, দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে করপোরেশনের কার্যপরিধির অন্তর্ভূক্ত ব্যবসায়িক লেনদেনসহ যেকোনো কাজে নিয়োজিত করা, জাহাজ নির্মাণ বা সংযোজন করা, জাহাজ ব্যবস্থাপনায় দেশ-বিদেশে বন্দরে শিপিং এজেন্ট নিয়োগ, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ করপোরেশনের ১২টি কাজ পরিচালনার কথা বলা হয়েছে আইনে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘১৯৭০ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে শিপিং করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে বেসামরিক ও সামরিক শাসনামলে এই আদেশে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়। এখন বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই মূল ইংরেজি আইনটি বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।’ মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিসভায় গৃহীত চলতি ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের বাস্তবায়নের প্রতিবেদন বৈঠকে পেশ করা হয়।

তিনি বলেন, গত ১৮ মার্চ সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ায় জাহাজে জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি মোকাবেলা বিষয়ক আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তি (আরএসিএএপি) এর-দশম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নৌপরিবহন মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদলের যোগদানের বিষয়টি বৈঠককে অবহিত করা হয় ।

মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, ভিয়েনায় গত ২০ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী রিভিউ গ্রুপের বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সপ্তম সেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের বিয়ষও বৈঠকে অবহিত করা হয়।

শেয়ারবাজারনিউজ/আ/ওহ

আপনার মন্তব্য

Top