গরমে সুস্হ্য থাকার উপায়

imagesশেয়ারবাজার ডেস্ক: গ্রীষ্মকালীন সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি আমাদের স্বাস্থ্যে অনেক বেশী প্রভাব ফেলে।     সূর্যের আলো ও তাপ দুটোই মানুষের ত্বক, চুল ও স্বাস্থ্যের অনেক পরিবর্তন এনে দিতে পারে। তাই এই গরমের সময় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। চলুন জেনে নেওয়া যাগ এই গরমের সময়টায় সুস্থ্য থাকার কিছু টিপস।

হিট স্টোকঃ মানুষের শরীরের সাধারন তাপমাত্রা হচ্ছে ৯৮.৬ F(৩৭.০C)। এই তাপমাত্রা গরমে যখন বেড়ে গিয়ে তীব্র রূপ ধারণ করে তাকে হিট স্টোক বলে। গরমের সময় এটাই সবচেয়ে মারাত্নক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবস্থা। তাই শরীরের তাপমাত্রা বজার রাখতে নিয়মিত গোসল করুন। প্রয়োজনে দিনে দুই বার। প্রচুর পানি পান করুন। ঢিলাঢালা হালকা রঙ এর পোশাক পরুন এবং এবং যতদূর সম্ভব সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকুন।

হিট ক্রাম্প, হিট এক্সজশন ডিহাইড্রেশনঃ হিট স্টোকের মতই এই ধরণের আরও কিছু সিম্পটম আছে যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় রোদের নিচে থাকার ফলে ঘামের সাথে প্রচুর পরিমানে লবন বেরিয়ে পড়ে। যার ফলে রক্তে সোডিয়ামের পরিমান কমে গিয়ে শরীর দুর্বলতা, শরীর ব্যাথা অনুভূত হয়।

এছাড়া হাতে পায়ের মাংসপেশির অসামাঞ্জস্য সংকোচনও ঘটে। তাই প্রচুর সিজনাল ফ্রুটস, জুস, লেবুর সরবত খান। তৃষ্ণার অপেক্ষা না করে প্রচুর পানি পান করুন সাথে সাথে সারাদিনে ২/৩ বার স্যালাইনের পানি খেতে পারেন। সুযোগ হলেই বিশ্রাম নিন।

ত্বকের যত্নঃ সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি বেড়ে গিয়ে দেহের অনাবৃত ত্বকে লালচে ভাব হয়ে ফুলে যেতে পারে। তাই তাপের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে ভাল কোন ব্রান্ডের মুক্ত সান্সক্রিম লোশন ব্যবহার করুন। রোদ এড়াতে ছাতা ব্যবহার করুন।

সানবার্ন সানট্যানঃ  সকাল ১০টা- বিকাল ৪টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। তাই এই সময়ে রোদটা এড়িয়ে চলা ভাল। কিন্তু কাজের প্রয়োজনে যাদের অনেকটা সময় বাইরে থাকতে হয় তারা প্রতি ২ ঘন্টা পরপর সানব্লক ক্রিম ব্যাবহার করুন এতে সানবার্ন থেকে ত্বক রক্ষা পাবে।

ঘরে ফিরেই খোসা সহ ২টা শশার সাথে ১ কাপ দুধ, ২ চা চামচ গোলাপ ফুলের পাপড়ি গুড়ার সাথে মিশিয়ে আনবৃত ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট পরে ধুয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজ লাগিয়ে নিন।

চোখের যত্নঃ ত্বকের পাশাপাশি চোখেরও বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সূর্যের তাপে চোখের চার পাশ ত্বকের চেয়ে দ্রতই কালো হয়ে পড়ে। সানগ্লাস চোখকে রোদ থেকে রক্ষা করতে পারে। এমন সানগ্লাস ব্যবহার করুন যার ব্লক কমপক্ষে ৯৬% যা সূর্যের বেগুনী রশ্নি থেকে চোখকে বাঁচিয়ে রাখে। এতে চোখের চারপাশে রিংল হওয়া রোধ করবে।

স্প্রিকাল হিট ফুট ইনফেকশনঃ ঘামে ভিজে স্যাতস্যতে থাকার কারণে গরমের সময় প্রায় মানুষের ত্বকে ঘামাচি দেখা দেয়। এর থেকে পরিত্রান পেতে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করার পর ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করুন। বেশী  রাশ হলে রাতে CALAMINA LOTION লাগাতে পারেন। একই ভাবে পায়ের আঙুলে ইনফেশন দেখা দিতে পারে। কুসুম গরম পানিতে লেবুর খোসা ও লবন দিয়ে পা ভিজিয়ে ঘষে ধুয়ে নিন। চেষ্টা করুন পরিস্কার ও শুষ্ক থাকতে।

চুলের যত্নঃ চুলের কারনে অল্প গরমেই মাথা ঘেমে গিয়ে এই সময় খুশকির প্রকোপ বাড়ে। এর থেকে বাঁচতে সপ্তাহে এক বার দই এর প্যাক লাগাতে পারেন। প্রতি দিন শ্যাম্পু করে চুল পরিষ্কার রাখুন।

সামার ডায়েটঃ এই গরমের সময় খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রচুর ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়। তাই খাবারে বৈচিত্র আনা জরুরি। সবজি, ফল, দুধ ও ফলের জুস জাতীয় খাবার খাওয়া উচিৎ যা শরীরে নিউট্রিয়েন্টস, পার্লস ও ফ্যাটের সমন্বয় সাধনে সহয়তা করে। এসময় পানি জাতীয় খাবার যেমন, তরমুজ, স্ট্রবেরি, ডাব, লেবু পানি দই ইত্যাদি বেশী বেশী করে খাওয়া উচিৎ। এসব খাবারে ক্যালরি কম থাকে তাই তাড়াতাড়ি হজম হয়। কম ক্যালরির খাবার খান সুস্থ থাকুন।

বিশুদ্ধ খাবার ও বিশুদ্ধ পানিয় পান করুন। গ্রীষ্মকালীন বাতাসে অনেক বেশী ক্ষতি কর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস বৃদ্ধি পায় যা খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে ঢুকে পড়ে। তাই খাবার সময় খাদ্যদ্রব্য ও পানীয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। নিজে ভাল থাকুন পরিবারকে ভাল রাখুন।

শেয়ারবাজার/রা

আপনার মন্তব্য

Top