বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করবে যে পিল!

শেয়ারবাজার ডেস্ক: একজন পূর্ণাঙ্গ রমণীর ডিম্বাশয় থেকে প্রতি মাসে একটি করে ডিম্বাণু নির্গত হয়। ৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রজনন বয়স ধরা হলেও ৩৫ বছরের পর থেকে প্রজনন ক্ষমতা কমতে থাকে। প্রজনন বয়সের শেষ দিকে ডিম্বাণু নিঃসরণ প্রতি মাসে না-ও হতে পারে।

আধুনিক তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বেশি বয়সে বিয়ে করার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায়, তাঁদেরকে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে তারা ঝুঁকির মধ্যে থাকে। অনেকেই আবার বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভোগেন।

বলা হয়ে থাকে, বেশি বয়সী নারীদের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা অনেকটাই কম। এতে অনেকের মা হওয়ার আশা দূরাশাই থেকে যায়। আর আইভিএফ চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকেই সন্তান ধারণে অক্ষম হয়ে পড়েন।

তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভোগা নারীদের আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সেও মা হওয়া সম্ভব বলে দাবি করছে গবেষকরা। গবেষকদের দাবি, সফল গর্ভধারণের ক্ষেত্রে শরীরের একটি হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আর সেই হরমোনটির নাম ডিহাইড্রোপিয়ানড্রস্টারোন (ডিএইচইএ)। ডিহাইড্রোপিয়ানড্রস্টারোন একটি সেক্স হরমোন।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিকভাবে ২০ বছর থেকে ৪০ বছরের নারীদের প্রায় অর্ধেক ডিহাইড্রোপিয়ানড্রস্টারোন হরমোন ঝরে যায়। আর এই হরমোন শরীর থেকে ঝরে যাওয়ার কারণেই মূলত বন্ধ্যাত্ব সমস্যা দেখা দেয় বলে জানিয়েছে গবেষকরা।

তবে আনন্দের খবর হলো, গবেষকরা নতুন একটি পিল আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন, যেটি শরীরে ডিএইচইএ’র মাত্রা বাড়িয়ে দিবে। এদিকে গর্ভধারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ করতে পারে, এ ধরণের আরও একটি ওষুধ আবিষ্কার করেছে গবেষকরা।

এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনফ্ল্যামেশন রিসার্চ বিভাগে এ গবেষণা কার্যক্রম চালানো হয়। এর নেতৃত্ব দেন বিখ্যাত গবেষক ড. ডগলাস গিবসন। তিনি বলেন, আমরা এ উদ্ভাবনের ফলে উচ্ছ্বসিত। এই পিল কোষে ডিএইচইএ’র পরিমাণ বৃদ্ধি করে। তাই আশা করছি, এটি নারীর প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

তবে এখনো আরও গবেষণা দরকার আছে বলে জানিয়েছেন ড. গিবসন। তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আরও কার্যকরী গবেষণা চালিয়ে যাবো। আর এই অগ্রগতি আমাদের অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। সূত্র: দ্য মেইল

শেয়ারবাজারনিউজ/মু

আপনার মন্তব্য

*

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Top