আজ: শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১ইং, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

সর্বশেষ আপডেট:

২৪ জুন ২০২১, বৃহস্পতিবার |



kidarkar

করোনা সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে দেশের ৪০ জেলা

শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। শনাক্ত ও মৃত্যু- দুটিই বাড়ছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এক সপ্তাহের নমুনা পরীক্ষা ও রোগী শনাক্তের হার বিবেচনা করে এই ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

গত মঙ্গলবার (২২ জুন) বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ১৪ থেকে ২০ জুন- এই এক সপ্তাহের নমুনা পরীক্ষা ও রোগী শনাক্তের হার বিবেচনা করে তিনটি মাত্রার ঝুঁকি (অতি উচ্চ, উচ্চ ও মধ্যম) চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর বাইরে আরও ১৫টি জেলা আছে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে। সংক্রমণের মধ্যম ঝুঁকিতে আছে ৮টি জেলা। বান্দরবানে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় সেটি বিবেচনায় আনা হয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার সবক’টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে আছে। রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার মধ্যে ৬টি অতি উচ্চ ঝুঁকিতে, ২টি আছে উচ্চ ঝুঁকিতে।

এখন পর্যন্ত রাজধানীতে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির খুব বেশি অবনতি হয়নি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সূচকে ঢাকাসহ ২টি জেলা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ৭টি জেলা আছে করোনা সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে। ৪টি জেলা আছে মধ্যম ঝুঁকিতে।

রংপুর বিভাগের ৫টি অতি উচ্চ এবং ৩টি জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামসহ ৬টি জেলা অতি উচ্চ, ৩টি জেলা উচ্চ এবং একটি জেলা মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ।

বরিশাল বিভাগে ৩টি জেলা অতি উচ্চ ঝুঁকিতে এবং মধ্যম ঝুঁকিতে ৩টি জেলা। সংক্রমণ এখনো তুলনামূলক কম সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।

গত ৭১ দিনের মধ্যে দেশে বুধবার (২৩ জুন) সর্বোচ্চ করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ২২ ‍জুন সকাল ৮টা থেকে ২৩ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৭২৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর আগে গত ১৩ এপ্রিল একদিনে ছয় হাজার ২৮ জন শনাক্ত হন বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

গত এক সপ্তাহ ধরেই দৈনিক শনাক্ত বাড়ছে। গত ২২ জুন শনাক্ত হন চার হাজার ৮৪৬ জন, ২১ জুন শনাক্ত হন চার হাজার ৬৩৬ জন, ২০ জুন তিন হাজার ৬৪১ জন, ১৯ জুন তিন হাজার ৫৭ জন, ১৮ জুন তিন হাজার ৮৮৩ জন, ১৭ জুন তিন হাজার ৮৪০ জন এবং ১৬ জুন তিন হাজার ৯৫৬ জন শনাক্ত হন।

শনাক্ত রোগী বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুও। বুধবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮৫ জন। তার আগে মঙ্গলবার (২২ জুন) মারা যান ৭৬ জন, ২১ জুন ৭৮ জন, ২০ জুন ৮২ জন, ১৯ জুন ৬৭ জন, ১৮ জুন ৫৪ জন, ১৭ জুন ৬৩ জন এবং ১৬ জুন মারা যান ৬০ জন।

বুধবার শনাক্তের হারও ২০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনও দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না বোঝার নির্দেশক হচ্ছে রোগী শনাক্তের হার। কোনও দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।

আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.